ইউনুসের ব্যর্থতা, দেশের অর্থনীতি ধসে,ঋণ যুদ্ধে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: গত ১৭ মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ভয়ঙ্কর ধসের মুখোমুখি। মাথাপিছু আয় কমেছে, সাধারণ মানুষ দারিদ্র্যের দোয়ারে দাঁড়িয়ে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট হলো ঋণের বিস্ফোরণ, যা দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও নাগরিকের জীবনযাত্রাকে একদমে নষ্ট করে দিয়েছে।
সংখ্যা স্পষ্ট বলছে অবস্থা কতটা ভয়ঙ্কর:
শেখ হাসিনার শাসনামলে আগে
সূচক
ইউনুস সরকার (১৭ মাসে)
তুলনা/বৃদ্ধি
মোট ঋণ
২৩ লাখ কোটি টাকা
২ লাখ কোটি টাকা
১০.৫ গুণ বৃদ্ধি
জনসংখ্যা
১৬ কোটি
১৬ কোটি
একই
মাথাপিছু ঋণ
১,৪৩,৭৫০ টাকা
১২,৫০০ টাকা
১০.৫ গুণ বৃদ্ধি
সংখ্যা থেকেই বোঝা যায়, মাত্র ১৭ মাসে দেশের ঋণের বোঝা বহুগুণ বেড়েছে, যা জনগণের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অর্থাৎ, জনগণ উন্নয়ন বা সমৃদ্ধি নয়, কেবল ঋণের বোঝা বহন করছে।
তুলনায়, শেখ হাসিনার সময়ে দেশের অর্থনীতি ছিল স্থিতিশীল এবং উন্নয়নমুখী। সেতু, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—all এ ধরনের বিনিয়োগ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছিল। তবে ইউনুস সরকারের সময়ে ঋণ বৃদ্ধি হয়েছে উন্নয়নমূলক কাজে নয়, বরং লোপাট, ক্ষমতা সংরক্ষণ এবং ব্যর্থ নীতির ফলাফল।
অর্থনৈতিক হিসাব অনুযায়ী:
আগের মাথাপিছু ঋণ: ১২,৫০০ টাকা
বর্তমান মাথাপিছু ঋণ: ১,৪৩,৭৫০ টাকা
নেট বৃদ্ধি: ১,৩১,২৫০ টাকা
বৃদ্ধি হার: ১০.৫ গুণ
এই ১০.৫ গুণ ঋণের বৃদ্ধি মানে হলো, প্রতিটি নাগরিককে অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতি, কর বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার ব্যর্থতা এবং দারিদ্র্যের চাপে পরিণত হবে।

রাষ্ট্রের শাসন মানে কেবল ক্ষমতা ধরে রাখা নয় শাসনের মূল মানদণ্ড হলো জনগণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার উন্নতি এবং ন্যায়বিচার। ইউনুস সরকার এই মাপকাঠিতে ব্যর্থ হয়েছে। ঋণের অমিত বৃদ্ধির ফলে জনগণকে কেবল দারিদ্র্য ও অসহায়তার দিকে ঠেলা হয়েছে।
যদি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নমুখী ও স্থিতিশীল হতে চায়, তাহলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পুনঃসংগঠন ছাড়া পথ নেই। অন্যথায়, এই ঋণের বোঝা আগামী প্রজন্মের জন্য এক চরম বিপদ হয়ে দাঁড়াবে।