দিনপত্র ডেস্ক :: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর, যখন ইউনুস সরকার ক্ষমতায় অবৈধভাবে দখল গ্রহণ করেছিল, তখন দেশের সাংবাদিক সমাজের ওপর যে চাপ ও সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল, তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। শত শত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, অনেককে জেলে নেওয়া হয়েছিল, এবং কিছু সাংবাদিক খুনের মামলার আসামি হিসেবে যুক্ত হন।
কেবল মামলা নয় মিডিয়া প্রতিষ্ঠান দখল, চাকরিচ্যুতি, পেশাগত স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ এবং প্রেসক্লাবে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই সময় সাংবাদিকতার মৌলিক অধিকার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়েছিল। নিরাপত্তাহীনতা, হুমকি-ধামকি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দাপট সাংবাদিক সমাজকে ভয়ে গ্রাস করেছিল।
অন্যদিকে, একসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে সক্রিয় থাকা কিছু সাংবাদিক রাজনৈতিক পালাবদলের পরও নির্বিঘ্নে, প্রভাবশালী ও স্বচ্ছন্দে নতুন বলয়ে মিশে গেছেন।
বিএনপি–জামায়াত–এনসিপির সঙ্গে তাদের সক্রিয়তা, প্রেসক্লাব ও কর্মক্ষেত্রে দাপট সবই এই বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করছে। তারা ন্যূনতম কোনো আতঙ্ক বা সমস্যার মুখোমুখি হননি। আল্লাহর রহমতে তারা আগে ভালো ছিলেন, এবং এখনও ভালো আছেন।
অন্যদিকে, যারা চাকরিচ্যুতি, হুমকি, মব আতঙ্ক, মামলার ভয়, প্রেসক্লাবে অলিখিত নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পালিয়ে বেড়ানো, ভয়ে কাজ করা এটাই তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা।
এ প্রশ্নে চূড়ান্ত নিরীক্ষা প্রয়োজন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেউ কেন অক্ষত, প্রভাবশালী ও নিরাপদ থাকে, আর কেউ কেন ভয়, হুমকি ও বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হয়? এটি কি কেবল ব্যক্তিগত দক্ষতার ফল, নাকি শক্তিধরদের ছায়ায় ছদ্মবুদ্ধি ও গোপন সমঝোতার ন্যাক্কারজনক ফলাফল?
সাংবাদিকতার মর্যাদা কেবল কলমের শক্তি নয় এটি স্বাধীনতা, নৈতিকতা ও সাহসের প্রতীক। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা দেখাচ্ছে, যে কেউ ক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেই নিরাপদ, বাকিরা পেশাগত নিরাপত্তাহীনতার দ্বারপ্রান্তে। এই অমানবিক বৈষম্য ও সুবিধাবাদ ইতিহাস কখনো ভুলবে না।