আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন–এর অপরাধ নিয়ে চলমান কংগ্রেসীয় তদন্তে সাক্ষ্য দিতে হাজির হয়েছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। বাংলাদেশে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস–এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত হিলারি বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদের তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সামনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বক্তব্য দেন।
সাক্ষ্যগ্রহণকে ঘিরে সৃষ্টি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। বৈঠক চলাকালে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাময়িকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। পরে তা আবার শুরু হয়।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত United States House of Representatives–এর হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির হওয়ার আগে ক্লিনটন দম্পতি এই প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিতে সম্মত হওয়ায় কংগ্রেস অবমাননার সম্ভাব্য পদক্ষেপ থেকে তারা আপাতত রেহাই পেয়েছেন।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকের একটি ছবি এক্সে পোস্ট করেন কনজারভেটিভ ভাষ্যকার বেনি জনসন। তিনি দাবি করেন, ছবিটি তাকে পাঠিয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য লরেন বোয়েবার্ট। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে ক্লিনটন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বোয়েবার্ট পরে বলেন, ছবিটি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে তোলা।
বৈঠকে হিলারি ঠিক কী বলেছেন, তার পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি কমিটিকে ‘দলীয় রাজনৈতিক থিয়েটার’ বলে উল্লেখ করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কেও সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানানোর পরামর্শ দেন।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে হিলারি বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে দেখা বা কথা বলার কথা তাঁর মনে নেই। তাঁর স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এপস্টিনকে চিনতেন, তবে কোনো অপরাধ সম্পর্কে জানতেন না বলে অস্বীকার করেছেন।
হিলারির ভাষায়, “আমাদের লুকানোর কিছু নেই। সংশ্লিষ্ট নথি পুরোপুরি প্রকাশের পক্ষেই আমরা।”