থামছেই না মব সন্ত্রাস, উদ্বেগ বাড়ছে দেশে

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ২ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে যেন অঘোষিত এক মব রাজত্বের বিস্তার ঘটছে। আইন, বিচার আর রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে একের পর এক হামলা, গণপিটুনি আর উন্মত্ত জনতার তাণ্ডব নতুন আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে সমাজে। প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্র কোথায়, আইন কোথায়? বিচারহীনতার এই পরিবেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

মব সহিংসতার শিকার সাধারণ মানুষ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সন্ত্রাসের ঘটনা থামছে না। কখনো চোর সন্দেহে, কখনো গুজব বা ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে উচ্ছৃঙ্খল জনতার হাতে মারধর, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় পরিবার দাবি করেছে, তিনি কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রাস্তা থেকে ধরে এনে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও বেশির ভাগ অভিযুক্ত এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রকাশ্যে হামলার ভিডিও

পুরান ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে এক ক্রেতাকে ঘিরে ধরে মারধরের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কর্মচারী তাকে ঘিরে টানাহেঁচড়া ও মারধর করছেন, আর আশপাশে থাকা লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

পরিসংখ্যানে উদ্বেগজনক চিত্র

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে দেশে মব সহিংসতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে মব সহিংসতায় নিহত হন ১২৮ জন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা আরও বেড়ে প্রায় দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরেও এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয়েও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারণ কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল হলে মানুষ কখনো কখনো আইন নিজের হাতে তুলে নিতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে টার্গেট করেও গণপিটুনির ঘটনা ঘটানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়া, স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হওয়া এবং দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়াও এ ধরনের ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কবার্তা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মব সন্ত্রাস একটি গুরুতর অপরাধ এবং কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাদের ভাষ্য, এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সামাজিক উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থাকলে মব সহিংসতার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।