দিনপত্র ডেস্ক :: নতুন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে অধিবেশন ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—বিদায়ী স্পিকার উপস্থিত না থাকলে সেই অধিবেশন কতটা সাংবিধানিকভাবে সঙ্গত ছিল। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী।
সাংবিধানিক প্রথা কী বলে
সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাধারণত বিদায়ী স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। তার অনুপস্থিতিতে সেই দায়িত্ব পালন করেন ডেপুটি স্পিকার। এরপর নতুন স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
কিন্তু এবার সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি বলে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলে আলোচনা দেখা যাচ্ছে।
শিরিন শারমিনের অবস্থান নিয়ে জল্পনা
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের যে তালিকা প্রকাশ করেছিল আইএসপিআর, সেখানে শিরিন শারমিন চৌধুরীর নামও ছিল বলে বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
শিরিন শারমিন চৌধুরীকে রংপুরের একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে তিনি দেশে আছেন নাকি দেশের বাইরে—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ পায়নি।
প্রশ্ন উঠছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিয়ে
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বিদায়ী স্পিকার দেশে অবস্থান করেন এবং আইনগতভাবে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অযোগ্য ঘোষণা না করা হয়, তাহলে তার অনুপস্থিতিতে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠতে পারে।
অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ পরিচালনার বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করা সম্ভব।
আলোচনার কেন্দ্রে একটি প্রশ্ন
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এখন একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—যদি শিরিন শারমিন চৌধুরী দেশে থেকেই থাকেন, তাহলে প্রথম অধিবেশনে তাকে আমন্ত্রণ বা উপস্থিত করা হলো না কেন?
এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো সামনে না আসায় বিষয়টি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।