দিনপত্র ডেস্ক :: পবিত্র রমজান মাসে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আফগানিস্তানের কাবুলে একটি হাসপাতালে কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৪০০ জন চিকিৎসাধীন মুসলিম নাগরিককে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি হামলায় জড়িত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি জানিয়েছে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও বিদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্দোলন (ম্যাকফা)। সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহবায়ক মো: আল মামুন স্বাক্ষরিত এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে (১৮ মার্চ, বুধবার) এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
লিখিত প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে যে, “আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যা কাপুরুষোচিত আচরণ ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উক্ত ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও বিদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধ আন্দোলন (ম্যাকফা)। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের দাবি, এধরণের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী আচরণের জন্য পাকিস্তানকে অবশ্যই বিশ্বের সামনে জবাবদিহিতার আওতায় এনে বিচার করতে হবে। সারা বিশ্বে পাকিস্তান পরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাস, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের বিষ বাষ্প ছড়িয়ে শান্তিপূর্ণ বিশ্বকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে যা সচেতন বিশ্ব সমাজ কখনোই মেনে নিবে না। পাকিস্তান ইসলাম ও মানবতার প্রকৃত শত্রু। গত সোমবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের চালানো এই কাপুরুষোচিত হামলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪০০ জন মুসলিম নাগরিক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। অন্তত ২৫০ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহত ও আহতদের সবাই সাধারণ নাগরিক। এই হামলা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। পাকিস্তান এবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পবিত্র রমজান মাসেও ৪০০ জন মুসলিম হত্যাকাণ্ড চালিয়ে প্রমাণ করলো পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে ধর্ম ব্যবসায়ী ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষক। এরা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালি মুসলিমকে হত্যা ও ধর্ষণ করেছিল। আজও পর্যন্ত সেই জঘন্য গণহত্যা ও গণধর্ষণে জড়িত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিচার হয়নি। পাকিস্তান সুযোগ পেলে এভাবেই একের পর এক মুসলিম হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতা কামী বেলুচিস্তানে মুসলিম নাগরিকদের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের দাবি, অবিলম্বে পাকিস্তানের সকল বৈশ্বিক সন্ত্রাস, মৌলবাদ ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আফগানিস্তানের হাসপাতালে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৪০০ জন নিরীহ মুসলিম নাগরিককে হত্যার অপরাধে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাকিস্তানের এই কাপুরুষোচিত হামলায় সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর মানবাধিকার সুরক্ষিত করতে হবে।”