দিনপত্র ডেস্ক :: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে আফতাব মজুমদার জয় নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে নগরের হালিশহর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম নগরে এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির পদধারী এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আফতাব মজুমদার জয়। তিনি এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সংগঠক এবং বন্দর থানা যুবশক্তির আহ্বায়কের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে পাওয়া নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, গত ১৪ মে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আফতাবকে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরের চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন জানান, গত ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী এক তরুণী আফতাবের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার ভিত্তিতে গোপন তথ্যের ওপর ভর করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বুধবার রাতে হালিশহর থানার বিডিআর মাঠ এলাকা থেকে আফতাবকে গ্রেপ্তার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে র্যাব সদস্যরা রাতেই তাঁকে চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আফতাবের সাথে পরিচয় হয় তাঁর। যোগাযোগের একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় এবং আফতাব ওই ছাত্রীকে বিয়ের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও থানা এলাকার ‘সুইট প্যালেস’ নামক একটি আবাসিক হোটেলের রুমে নিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই ছাত্রীর সাথে প্রথম শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন আফতাব। তবে পরবর্তীতে ওই তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে আফতাব তাঁকে স্পষ্ট এড়িয়ে যেতে থাকেন এবং একে একে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরবর্তী সময়ে খোঁজখবর নিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী জানতে পারেন, অভিযুক্ত আফতাব আগে থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গত ১৯ জুলাই চান্দগাঁও থানায় বাদী হয়ে লিখিত মামলা দায়ের করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হন।
রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় জানান, আফতাব দলের একজন তালিকাভুক্ত সদস্য এবং তিনি যে বিবাহিত তা সত্য। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠন থেকে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।
একই সাথে তিনি মন্তব্য করেন, ব্যক্তিস্বার্থ বা অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না। অভিযুক্তের কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুসারেই তাঁর বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।