জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ব্যবহৃত গুলির উৎস নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য, জড়িত থাকার অভিযোগ সাবেক লে. কর্নেল হাসিনুর,

লেখক: এনায়েত কবির,
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ব্যবহৃত গুলির উৎস নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন সূত্র ও সামরিক নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ডিভিশনের কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের গুলি—যা সাধারণত স্নাইপার রাইফেলে ব্যবহৃত হয়—এই সময়ে ঢাকায় নিহতদের বেশিরভাগের শরীরে পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের অস্ত্র সাধারণত সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট ইউনিট ব্যবহার করে থাকে।
এদিকে, সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানের নামও উঠে এসেছে আলোচনায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ULFA ও NSCN (IM)-এর প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ ও হিজবুত তাহরীরের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
সামরিক সূত্র জানায়, বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে তাকে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছিল।
আরও জানা গেছে, হাসিনুর ও তার সহযোগীরা শেয়ারবাজার ও বিটকয়েন লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ করতেন।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর এক যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত নেতার ছেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। বলা হচ্ছে, এই ব্যক্তি সেনাবাহিনীর কিছু “ভারতবিরোধী” কর্মকর্তার ওপর প্রভাব বিস্তার করেন এবং দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি করেন।
অন্যদিকে, জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। অন্তত তিনজন মার্কিন নাগরিক—ম্যাথিউ ভ্যানডাইক, টেরেন্স আর্ভিল জ্যাকসন ও রিচার্ড ড্যানিয়েল রোমান—সেই সময়ে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক শুনানিতেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওইদিন প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম প্রতিরক্ষা আইনজীবী নাজনীন নাহারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। আদালত কক্ষে উপস্থিত অনেক সিনিয়র আইনজীবী ও বিচারকরা এ ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
শুনানি শেষে বের হওয়ার সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান নাজনীন নাহারকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ব্যারিস্টার নাজিয়া কবিরকেও কটূক্তি করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তাদের সান্ত্বনা দিয়ে নিরাপদে বের হতে সহায়তা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনাপ্রবাহে সামরিক ও আন্তর্জাতিক সংযোগের বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।