দিনপত্র ডেস্ক :: ক্যান্টনমেন্টের গর্ভে বিএনপিকে প্রতিষ্ঠা করা মিলিটারি ডিক্টেটর জিয়াউর রহমানের করা উক্তিটি ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে— শুধু কথা ছিল না, বরং ছিল এক সুপরিকল্পিত কৌশলের ইঙ্গিত। তিনি মূলত তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য প্রভাবশালী দলগুলোর আধিপত্য দুর্বল করে দিতে চেয়েছিলেন।
আর সেটা তিনি করেছেন যেভাবে—
ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে আনা—
রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা, ব্যাংক ঋণ ও লাইসেন্সের বিনিময়ে তিনি ব্যবসায়ী শ্রেণিকে সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেন। ফলে আদর্শের জায়গা দখল করে নেয় “টাকা ও ক্ষমতার রাজনীতি”। ফলাফল? রাজনীতিতে ব্যাপক পরিমাণে দুর্নীতি বেড়ে যায়।
অন্য দলের নেতা নিয়ে টানাটানি ও ব্ল্যা’কমেইল—
আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের প্রভাবশালী নেতাদের কেবল টাকা-পদ দিয়েই টানেননি; যারা রাজি হতেন না, তাদের বিরুদ্ধে এজেন্সি দিয়ে মা’মলা, কর ফাঁকির হুমকি বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ’-এর ব্ল্যাকমেইল করা হতো। আরে ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো, পাকিস্তানি I/SI মডেলে জিয়ার হাতে প্রতিষ্ঠিত ড* আদ্যক্ষরের এজেন্সিকে।
হত্যাকাণ্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্যদের হত্যা—
প্রত্যক্ষ সূত্রমতে, সেসময় তিনি আওয়ামী লীগ, বামপন্থী ও অন্যান্য বিরোধী দলের অনেক নেতাকে হ/ইত্যা বা নিখোঁজ করেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের অনেককে তিনি হ/ইত্যা করেন বা স*রিয়ে দেন। এর পেছনের উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার- মুক্তিযোদ্ধা পন্থীদের মনে গভীর ভয় তৈরি করা। কারণ মুক্তিযোদ্ধারাই ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতাপন্থী শক্তির মেরুদণ্ড। তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিলে বিরোধী মতাদর্শ আপনা থেকেই ভয়ে স্তব্ধ হয়ে যাবে – এটি ছিল এক সুকৌশলী গণহ/ইত্যামূলক পদক্ষেপ।
নিষিদ্ধ স্বাধীনতাবিরোধী দলগুলোর পুনর্বাসন—
১৯৭৫-পরবর্তী নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় করার সুযোগ দেন, পাকিস্তানের I/SI এর প্রেসক্রিপশনে।
৭২ এর সংবিধান পরিবর্তন—
সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তন করে মিলিটারি ডিক্টেটর নিজের ক্ষমতার বৈধতা নিশ্চিত করেন। এতে বিরোধীদের জন্য রাজপথে আন্দোলন বা আইনি লড়াই প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
শেষ কথা,
মুক্তিযোদ্ধাদের হইত্যা, ব্ল্যাকমেইল, এজেন্সির নজরদারি ও অর্থের রাজনীতি—সবকিছু মিলিয়েই তিনি ‘রাজনীতি কঠিন করে দেওয়ার’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছিলেন। এর বড় প্রভাব ছিল মুক্তিযোদ্ধা পন্থী রাজনীতিক ও কর্মীদের মধ্যে এক অব্যক্ত ভয় ও প*ঙ্গুত্ব সৃষ্টি করা, যা পরবর্তী দশকগুলোতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থানকে তরান্বিত করে।