ঢাকা: নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার একটি ছোট গ্রাম। (BGB firing)রাতের অন্ধকারে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, তখন এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় গোটা এলাকা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) এক সদস্য বিষ্ণু প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির থেকে। গ্রামের হিন্দু বাসিন্দারা তাঁকে দেখতে পেয়ে বাধা দিতে গেলে তিনি আত্মরক্ষার নামে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।স্থানীয় সূত্র অনুসারে, ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার সিংড়া এলাকায় অবস্থিত একটি বিষ্ণু মন্দিরে। রাতের বেলা বিজিবি সদস্যটি মন্দিরের ভিতরে ঢুকে প্রতিমা সরানোর চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ করে গ্রামের কয়েকজন হিন্দু যুবক ও বয়স্ক বাসিন্দা সন্দেহজনক আওয়াজ শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
আরও দেখুনঃ বায়ুসেনার বড় পরিকল্পনা, দিল্লি-এনসিআর-এর নিরাপত্তায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে সুদর্শন চক্র
তাঁরা দেখেন, একজন ইউনিফর্মধারী ব্যক্তি প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁরা চিৎকার করে প্রতিবাদ জানান এবং তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন।এই সময় সেই বিজিবি সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে পাঁচটি গুলি ছোড়েন বলে জানা গেছে। গুলির আওয়াজে গোটা গ্রাম জেগে ওঠে। কেউ আহত হয়েছেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে গুলি ছোড়ার ঘটনায় সবাই ভয়ে কাঁপছিলেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা পরে বলেছেন, “আমরা তো শুধু আমাদের ঠাকুরকে রক্ষা করতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু তিনি গুলি চালিয়ে দিলেন। রাতের অন্ধকারে এমন ঘটনায় আমাদের মনে হয়েছে, আমরা কি নিরাপদ নই?” ঘটনার পর গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেন। সিংড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিজিবির ওই সদস্যকে আটক করা হয়েছে কি না তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, এই ঘটনা শুধু একটি চুরির চেষ্টা নয়, এটা তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত।
“প্রতিমা আমাদের কাছে শুধু মূর্তি নয়, এটা আমাদের বিশ্বাসের প্রতীক। কেউ যদি সেটা চুরি করতে আসে, তাহলে আমরা চুপ করে থাকব কী করে?” একজন বয়স্ক হিন্দু ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন।এই ঘটনা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জেলায় মন্দিরে চুরি, ভাঙচুর ও প্রতিমা অপসারণের ঘটনা বেড়েছে।
অনেকে বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির সদস্যদের এমন আচরণ হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। স্থানীয় হিন্দু নেতারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, “আমরা দেশের নাগরিক। আমাদের ধর্মীয় স্থান রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”