বাংলাদেশে আইনের শাসন চরম সংকটে,

লেখক: সৈয়দ বদরুল আহসান,
প্রকাশ: ৪ দিন আগে

ঢাকা: বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইনের শাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। এক মতামত নিবন্ধে সাংবাদিক Syed Badrul Ahsan দাবি করেছেন, গত দেড় বছরের Muhammad Yunus-নেতৃত্বাধীন শাসনামলে আইনের শাসন ছিল সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত।
নিবন্ধে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে Sheikh Hasina-এর সরকার অপসারণের মধ্য দিয়ে সংবিধান ও আইনের শাসনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। লেখকের মতে, এটি ছিল দেশের ইতিহাসে আরেকটি অগণতান্ত্রিক ক্ষমতা দখলের উদাহরণ।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
লেখায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগেও একাধিকবার আইনের শাসন লঙ্ঘিত হয়েছে।
১৯৭৫ সালের আগস্টে Sheikh Mujibur Rahman-এর সরকারকে সহিংস অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
পরবর্তীতে Ziaur Rahman এবং Hussain Muhammad Ershad সামরিক শাসনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।

গ্রেপ্তার ও অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন
মতামত নিবন্ধে অভিযোগ করা হয়, সাবেক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও কর্মকর্তাকে “অযৌক্তিকভাবে” গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই হত্যা মামলা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
লেখকের দাবি, এসব গ্রেপ্তার আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং এখনো অনেকেই কারাগারে রয়েছেন।

সহিংসতা ও তদন্তের অভাব
২০২৪ সালের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় যথাযথ তদন্ত না হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
নিবন্ধে বলা হয়, দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল Bangladesh Awami League-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করেছে।
বর্তমান Bangladesh Nationalist Party সরকারের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন অতীতের এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

উপসংহার
লেখকের মতে, আইনের শাসন বারবার ক্ষুণ্ন হলে একটি দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই শঙ্কারই ইঙ্গিত বহন করছে।