পল কাপুরের ঢাকা সফর: ACSA ও GSOMIA প্রধান ফোকাস?

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ১ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক ::বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দুটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ঢাকায় সফর করেছেন মার্কিন কর্মকর্তা Paul Kapur। তার এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সফরের এজেন্ডায় ছিল সামগ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কাঠামো। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছে, আলোচনার কেন্দ্রে ছিল Acquisition and Cross-Servicing Agreement (ACSA) ও General Security of Military Information Agreement (GSOMIA) বাস্তবায়নের বিষয়।

সরকারের বক্তব্য

বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতারা বলছেন, সফরটি নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপের অংশ। তাদের মতে, প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী করা হয়েছে এবং এগুলো বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশন, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

সরকারি মহল জোর দিয়ে বলছে, এসব চুক্তি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা জোটে আবদ্ধ হওয়ার বিষয় নয়।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা এবং প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি একই সূত্রে গাঁথা। দলটির নেতাদের দাবি, সরকারের পতনের পেছনে ‘ডিপ স্টেট’ প্রভাব ছিল এবং সাম্প্রতিক সফর সেই প্রভাবের ধারাবাহিকতা।

আঞ্চলিক বার্তা কী?

বিশ্লেষকদের মতে, সফরটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, পাশাপাশি China ও India-এর ভূরাজনৈতিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভারসাম্য রক্ষা। একদিকে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো, অন্যদিকে কৌশলগত নিরপেক্ষতার বার্তা ধরে রাখা।

সামনে কী?

পল কাপুরের সফরের পর চুক্তি দুটি বাস্তবায়নে নতুন অগ্রগতি হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক উত্তাপ কমার লক্ষণ নেই। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, পররাষ্ট্রনীতি এবং ক্ষমতার পালাবদল—এই তিনটি বিষয় এখন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।