বাংলাদেশে মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ: বিচারে গতি আসলেও বাড়ছে অপরাধের অভিযোগ,

লেখক: আব্দুল আলিম তুষাড়
প্রকাশ: ২ দিন আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে মাদ্রাসায় ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন ও বলৎকারের সাম্প্রতিক কিছু হৃদয়বিদারক ঘটনার পর। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারিক আদালতের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের শতাধিক অভিযোগ উঠেছে, যার অধিকাংশেই মামলা বর্তমানে বিচারধীন।

​অভিযোগের পাহাড় জমলেও সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে আদালতের কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এমন তিনটি আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় নিচে তুলে ধরা হলো:
​১. ছাত্র ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক ইসমাইলের মৃত্যুদণ্ড
​চট্টগ্রামের দারুল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক মো. ইসমাইলকে (৪৬) ১২ বছরের এক ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
​রায়ের তারিখ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
​আদালত: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫, চট্টগ্রাম।
​২. লোহাগাড়ায় মাদ্রাসা শিক্ষকের যাবজ্জীবন
​চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক কোমলমতি ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের দায়ে রিয়াদ উদ্দিন (২৩) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
​রায়ের তারিখ: ২৭ আগস্ট, ২০২৫
​আদালত: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, চট্টগ্রাম।
​৩. ১০ বছরের ছাত্রকে নির্যাতনের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন
​চট্টগ্রামে ১০ বছরের এক শিশু ছাত্রকে বলৎকারের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষক মো. আবদুল মজিদকে (২৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
​রায়ের তারিখ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
​আদালত: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭, চট্টগ্রাম।
​নীতি-নৈতিকতা বনাম বাস্তবতা
​ইসলাম ধর্মীয় অনুশাসনে সমকামিতা ও যেকোনো ধরনের ব্যভিচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় সমাজ বিশ্লেষক ও অভিভাবকদের মনে গভীর ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে।
​বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের সঠিক তদারকির অভাব, শিক্ষকদের অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা এবং সামাজিক লজ্জার ভয়ে অধিকাংশ ঘটনা চেপে যাওয়ার সুযোগে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আদালতের কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হচ্ছে।
​কোমলমতি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাদ্রাসায় কঠোর সিসিটিভি নজরদারি, শিক্ষকদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং শিশু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন নাগরিক সমাজ।