দিনপত্র ডেস্ক :: সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । আরসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের (এআরও)এর নেতা কেফায়েত উল্লাহ হালিম ওরফে আব্দুল হালিম (৪০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়ার নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৭ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কেফায়েত উল্লাহ হালিম ওরফে আব্দুল হালিম (৪০) উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৭-এর ব্লক এফ/২-এর উসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও নুর মোহাম্মদ। তারা এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উখিয়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (১৪ এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক সিরাজ আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮/ইস্ট (বালুখালী) থেকে কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে নিজ নিজ শেডে ফিরছিলেন। তারা ক্যাম্প-৮/ইস্টের এ/৩২ পয়েন্ট ও ক্যাম্প-৭-এর মধ্যবর্তী তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা আরসা সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এতে এআরও নেতা কেফায়েত উল্লাহ হালিম গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের একটি মোবাইল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত আরসা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের জন্য ক্যাম্প এলাকায় পুলিশি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ক্যাম্পের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উখিয়া ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় অনেক রোহিঙ্গা তাদের সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে।
এসব মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন মিয়ানমারের হওয়ায় বাংলাদেশে সেগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নিতে কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব মোটরসাইকেল জব্দ করে। তবে পরবর্তীতে ক্যাম্পের মাঝিরা এসে ভবিষ্যতে আর ব্যবহার করবে না এ মর্মে মুচলেকা দিয়ে সেগুলো নিয়ে যায়।
সেনা পাহারায় গোলাগুলির ঘটনা নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।