পাকিস্তানি গোয়েন্দারা দেশের ভেতর রোহিঙ্গা, মাদ্রাসার ছাত্রদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, এনিয়ে স্থানীয় উদ্বেগ বেড়েছে

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক:: বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ এখন আর নিছক গুজবের পর্যায়ে নেই; বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—ময়মনসিংহের সামরিক কমপ্লেক্স, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকা ও বাগেরহাটের কিছু গোপন আস্তানায় রোহিঙ্গাদের ছোট দলে ভাগ করে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই খবর বাংলাদেশের মানুষের মনে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

*পাকিস্তানের কৌশলগত পরিকল্পনা*

এই ঘটনায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকিস্তানের লক্ষ্য মানবিক পুনর্বাসন নয়; বরং রোহিঙ্গা ইস্যুকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে অস্থির করা এবং ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। পাকিস্তানের এক সাবেক জেনারেলের মন্তব্য “আমরা পূর্ব দিক থেকে শুরু করব” কেবল কূটনৈতিক ইঙ্গিত নয়; বরং এক দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনারই বহিঃপ্রকাশ।

*সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা*

রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (RSO) ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (ARSA) প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সশস্ত্র শক্তি প্রদর্শন করছে। এসব কার্যক্রম শুধু অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে না, বরং প্রমাণ করছে যে, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় অপরাধ, মাদক ও মানবপাচার নেটওয়ার্কও জড়িয়ে পড়ছে, যা বাংলাদেশে বহুমুখী অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে।

*অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন*

বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানি সেনা গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা, মাদ্রাসার ছাত্র এবং বেকার তরুণদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই প্রায় দশ লাখ তরুণকে প্রাথমিক অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। সমালোচকদের অভিযোগ ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ইসলামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠীর নীরব সমন্বয় ছাড়া এত বড় আকারে প্রশিক্ষণ সম্ভব নয়।

*মানবিক সংকটকে হাতিয়ার করা*

রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বহীনতার শিকার। বাংলাদেশে আশ্রিত হলেও শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জীবিকার অভাব তাদের হতাশ করে তুলেছে। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। ফলে কেবল আইনশৃঙ্খলা কঠোর করলেই সমাধান হবে না; বরং শিক্ষার সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিতে হবে।

রোহিঙ্গা সমস্যা এখন আর শুধু মানবিক ইস্যু নয়, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার সংকট। পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক কৌশল, জঙ্গি গোষ্ঠীর কার্যক্রম এবং সরকারের দুর্বল অবস্থান মিলিয়ে বাংলাদেশ এক গভীর ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এই মুহূর্তে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য, দূরদর্শী কূটনীতি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অন্যথায়, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শক্তির কৌশলগত খেলায় গুটি বানিয়ে ফেলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।