গানের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ,ধর্মীয় চাপে সংস্কৃতিচর্চা সংকুচিত হচ্ছে

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে—গানের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত বা বিলম্বিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি রাজনৈতিক দল ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর আপত্তি এই নীতিগত স্থবিরতার পেছনে প্রভাব ফেলছে। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ে সংগীত বা গানের শিক্ষা “ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী।” ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গানের শিক্ষক পদ সৃষ্টির উদ্যোগ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত থেমে গেছে।
ধর্ম উপদেষ্টা জানিয়েছেন, “ইসলামি দলের দাবির প্রেক্ষিতে আপাতত গানের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় রাখা হয়েছে।”

অন্যদিকে, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বলছেন, এই অবস্থান শিক্ষার মানবিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করছে। তাঁদের মতে, শিশুদের প্রাথমিক স্তরেই সংগীতচর্চা ও শিল্পনন্দন বিকাশের সুযোগ দিতে হয়—যা কেবল শিল্পের শিক্ষা নয়, বরং নাগরিক চেতনা ও সৃজনশীলতার অংশ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকলেও বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম, সংস্কৃতি ও শিক্ষা চর্চার সমান অধিকার দিয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা সাম্প্রদায়িক চাপের কারণে শিক্ষানীতি সীমিত করা সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থী।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা না জানালেও অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি নিয়ে “সতর্ক অবস্থান” নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।