জুলাই চেতনার বাস্তবতা, মানুষের স্বাভাবিক জীবনের ওপর নিষেধাজ্ঞা

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: আজ জুলাই আন্দোলনের চেতনার নামে এক অদ্ভুত বাস্তবতা তৈরি করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে ক্রিকেট চলবে না, খেলাধুলা চলবে না, গান বাজনা চলবে না, কনসার্ট চলবে না, এমনকি বই পড়াও নাকি এই চেতনার পরিপন্থী। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নাকি এই নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পাবে।

এই বক্তব্য শুধু হাস্যকর নয়, এটি গভীরভাবে রাজনৈতিক এবং বিপজ্জনক। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যখনই “চেতনার দোহাই” দিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, তখনই সেই চেতনা রূপ নিয়েছে শাসনের হাতিয়ারে, আর মুক্তি পরিণত হয়েছে নতুন স্বৈরতন্ত্রে।
যারা ক্রিকেট বন্ধ করতে চায়, তারা খেলাটাকে নয় মানুষের স্বাভাবিক আনন্দকে আঘাত করে। যারা খেলাধুলাকে অপ্রয়োজনীয় বলে, তারা শরীর ও মনের স্বাধীনতাকে ভয় পায়।

যারা বই পড়াকে সন্দেহের চোখে দেখে, তারা আসলে প্রশ্নকে ভয় পায়। আর যারা গান–বাজনাকে আন্দোলনের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়, তারা ইতিহাস মুছে ফেলতে চায় কারণ এই উপমহাদেশের প্রতিটি বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের পেছনে ছিল গান, কবিতা আর সংস্কৃতি।
এই রাজনীতি বিপ্লবের নয়, এটি প্রতিক্রিয়ার। এটি মুক্তির দর্শন নয়, এটি নিষেধাজ্ঞার দর্শন। এখানে আন্দোলন কোনো লক্ষ্য নয় আন্দোলন একটি অজুহাত। অজুহাত ভিন্নমত দমন করার, অজুহাত সমাজকে একরঙা করার, অজুহাত মানুষকে আনন্দহীন ও প্রশ্নহীন অনুগত বাহিনীতে পরিণত করার।

যদি নতুন বাংলাদেশ এমন হয়, যেখানে মানুষ হাসতে পারবে না, খেলতে পারবে না, পড়তে পারবে না তাহলে সেটি নতুন বাংলাদেশের বাস্তবতা নয়, সেটি পুরোনো দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি। রাষ্ট্র যখন ঠিক করে দেয় মানুষ কী পড়বে, কী শুনবে, কী উপভোগ করবে তখন রাষ্ট্র আর নাগরিকের রক্ষক থাকে না, হয়ে ওঠে নৈতিক পুলিশের সদর দপ্তর।
জুলাই আন্দোলন হয়েছিল মানুষের বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করতে।

জীবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার জন্য সেই আন্দোলন কোনো ম্যান্ডেট দেয়নি। যারা আজ আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও চিন্তাকে শত্রু বানাচ্ছে, তারা আন্দোলনের উত্তরাধিকারী নয় তারা তার দখলদার।

ইতিহাস একটি কঠিন সত্য মনে করিয়ে দেয় মানুষের জীবনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোনো চেতনা টিকে না। যারা আনন্দ, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতাকে বন্ধ করতে চেয়েছে, শেষ পর্যন্ত ইতিহাসই তাদের বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ বিপ্লব কখনো জীবনবিরোধী হয় না, আর চেতনার বাস্তবতা কখনো মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে না।