সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ আসন কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য?

লেখক: সুবির দে,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

 

রাজনৈতিক প্রতিবেদক
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি–এর সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে—তারা কি এখনও এমপি আছেন, নাকি তাদের আসন শূন্য হয়ে গেছে?
বিষয়টি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনি আলোচনার কেন্দ্রেও।

‘লাভজনক পদ’ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেউ রাষ্ট্রের অধীন “লাভজনক পদে” অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হতে পারেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পদকে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করতে সাধারণত দেখা হয়—
• সেটি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন কি না
• সেখানে বেতন বা আর্থিক সুবিধা আছে কি না
• নির্বাহী বা প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে কি না
• নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে কি না

সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাঠামো এই মানদণ্ডে পড়ে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

আইনজ্ঞদের ভিন্নমত

ব্যারিস্টার তানিয়া আমির মনে করেন, পরিষদটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ এবং এতে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও সম্ভাব্য সুবিধা থাকলে তা লাভজনক পদ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এমপিদের পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি উঠতে পারে।

তবে অন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিষদটি যদি কেবল পরামর্শমূলক হয় এবং সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতা বা বেতনভিত্তিক কাঠামো না থাকে, তাহলে সেটিকে লাভজনক পদ বলা কঠিন।

আসন শূন্য হয় কীভাবে?

আইন অনুযায়ী, এমপি পদ খালি হওয়া স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নয়। সাধারণত—
১.বিষয়টি স্পিকারের বিবেচনায় যায়
২.প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের মতামত নেওয়া হয়
৩.শেষ পর্যন্ত আদালত চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেয়

অর্থাৎ, রাজনৈতিক বক্তব্য বা আইনি মতামত থাকলেও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া আসন শূন্য ঘোষণা করা যায় না।

সামনে কী হতে পারে?

পরিষদের প্রকৃতি, আর্থিক সুবিধা ও ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক চলবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিষয়টি আদালতে গেলে তবেই স্পষ্ট হবে—সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন কি না।

এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়নি।