সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুদকে শতাধিক অভিযোগ

লেখক: সুমিত বিশ্বাস
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শতাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন–এ। সংস্থাটির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযোগের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক অভিযোগেই আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্য যেকোনো অভিযোগের মতোই এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। প্রাথমিক সত্যতা মিললে অনুসন্ধান শুরু হতে পারে। তবে অধিকাংশ অভিযোগকারী নাম প্রকাশ করেননি। কয়েকজন অভিযোগকারী নাম-পরিচয় উল্লেখ করে লিখিত নথি জমা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

সূত্র অনুযায়ী, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ট্রাস্ট গঠন, আয়কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের বিষয় রয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল–এর বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন সংক্রান্ত অনিয়ম, বিচারক ও প্রশাসনিক পদায়নে আর্থিক লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট মামলায় প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান–এর বিরুদ্ধে প্রকল্প ব্যয়ে অনিয়ম ও সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে।

জ্বালানি খাতের সাবেক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান–এর বিরুদ্ধে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদক সূত্রের দাবি, তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগ জমা হয়েছে।

এ ছাড়া তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধেও সম্প্রচার লাইসেন্স ইস্যুতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

কী বলছে দুদক ও টিআইবি

দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর প্রাথমিক যাচাই চলছে। যেগুলো আমলযোগ্য বলে প্রতীয়মান হবে, সেগুলো অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ–এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা থাকলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। তার ভাষায়, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। তবে একই সঙ্গে অভিযোগের অপব্যবহার বা হয়রানির ঝুঁকি এড়াতেও সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অভিযোগে দুদকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এখন সংস্থাটির জন্য এটি নিরপেক্ষতা প্রমাণের একটি পরীক্ষা।

রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, বিদায়ী সরকারের প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একযোগে অভিযোগ ওঠা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে এটি জবাবদিহির দাবি জোরালো করছে, অন্যদিকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন নজর থাকবে দুদকের প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়ার দিকে। অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয় এবং তদন্ত কতটা স্বচ্ছভাবে এগোয়, সেটিই নির্ধারণ করবে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আইনি প্রক্রিয়ায় রূপ নেবে।