ইনকিলাব মঞ্চের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ

লেখক: সুমন মাহমুদ,
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠন বিস্তার এবং কথিত জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে আলোচনায় এসেছে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সংগঠনটি ভারতবিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের সমর্থন পাচ্ছে।
সূত্র মতে, ইনকিলাব মঞ্চের পেছনে এনসিপি, শিবির ও ছাত্রদলের একটি অংশের সমর্থন রয়েছে। এছাড়া ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাস ও তুর্কি দূতাবাসের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। আমেরিকার দূতাবাসে কর্মরত কয়েকজন বাংলাদেশির সম্পৃক্ততার কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের মাসিক ভাতা প্রদান করে থাকে। যদিও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজবুত তাহরিরের আদর্শভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংগঠনটির প্রায় ৭,০০০ সক্রিয় কর্মী রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে শিবির, এনসিপি ও ছাত্রদল থেকে আসা কর্মীরাও রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
সীমান্তবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সংগঠনটির কার্যক্রম জোরদারের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যশোর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (রংপুর), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দেড় বছরে হিজবুত তাহরিরের সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী উপাচার্য ও কিছু শিক্ষকের সহযোগিতায় একটি জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ওসমান হাদীর মৃত্যুর পর বর্তমান সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। তার নেতৃত্বে গোপন জঙ্গি তৎপরতা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যদিও এর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন শিল্পপতি ও সরকারি আমলা সংগঠনটির পরিচালনা ব্যয় বহন করছেন। এছাড়া সাবেক শিবির ক্যাডারদের কেউ কেউ প্রতিষ্ঠাতা ওসমান হাদীকে মোটা অঙ্কের অনুদান দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হিসেবে “মীর মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন শিবলী”-এর নামও উল্লেখ করা হচ্ছে। তিনি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।