দিনপত্র ডেস্ক :: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর একটি শক্তিশালী নিয়োগ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় চট্টগ্রামের জহুরুল হক বিমানঘাঁটির প্রধান মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া, পাকিস্তান থেকে এক ওয়ারেন্ট অফিসারকে আটকের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
ঘটনার সূত্রপাত: পাকিস্তান থেকে গ্রেফতার
গত দুই মাস আগে চট্টগ্রামের জহুরুল হক বিমানঘাঁটি থেকে নিখোঁজ (AWOL) হওয়া এক ওয়ারেন্ট অফিসারকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের (NWFP) একটি টিটিপি আস্তানা থেকে আটক করা হয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে ওই কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে, তিনি টিটিপি-র হয়ে কাজ করছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বিমান বাহিনীর ভেতর টিটিপি’র বিশাল নেটওয়ার্কের কথা প্রকাশ্যে আসে।
মূল হোতা যখন ইমাম
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, চট্টগ্রাম জহুরুল হক বিমানঘাঁটির প্রধান মসজিদের ইমাম আব্দুস শুকুর ছিলেন এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মূল হোতা। প্রায় ছয় মাস আগে টিটিপি’র ‘ট্যালেন্ট স্পটাররা’ তাকে নিয়োগ দেয়। বিমান বাহিনীর সদস্যদের মগজ ধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে ভেড়ানোর অভিযোগে গত ১০ দিন আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান ও ধরপাকড়
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ঢাকার কুর্মিটোলা (এ কে খন্দকার ঘাঁটি), চট্টগ্রামের জহুরুল হক ঘাঁটি এবং যশোরের মতিউর রহমান ঘাঁটিতে একযোগে চিরুনি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে এখন পর্যন্ত:
২ জন স্কোয়াড্রন লিডার গ্রেপ্তার হয়েছেন।
১০ জন জেসিও (জুনিয়র কমিশনড অফিসার) এবং বিমানসেনা আটক হয়েছেন।
আরও প্রায় এক ডজন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়ায় টিটিপি’র একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য একটি বিদেশি শক্তির সহায়তায় এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বিদেশে পালিয়েছেন ৭ কর্মকর্তা
পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের মাধ্যমে খবরটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর বিমান বাহিনীর অন্তত ৬ জন ওয়ারেন্ট অফিসার তড়িঘড়ি করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তারা বর্তমানে তুরস্ক, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং পর্তুগালে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্পর্শকাতর ইউনিটে অনুপ্রবেশ
আটক ও পলাতক সদস্যদের মধ্যে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্বরত ছিলেন। এর মধ্যে ২৫ ও ১৮ নম্বর স্কোয়াড্রনের সদস্যসহ যশোরের রাডার স্টেশনের (MTR) সদস্যরাও রয়েছেন, যারা রাডার ট্র্যাকিং ও আবহাওয়া সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্যে নিয়োজিত ছিলেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের এয়ারম্যান ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (ATI) একজন সদস্যের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
বর্তমান অবস্থা: এই ঘটনার পর দেশের সকল বিমানঘাঁটিতে উচ্চ সতর্কতা (High Alert) জারি করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাহিনীর ভেতর আর কেউ এই উগ্রবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত কি না, তা খতিয়ে দেখছে।