ঢাকা: বিতর্কিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী আজ টানা ৫০৭ দিন ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দীর্ঘ এই সময়েও তাঁর মুক্তির কোনো লক্ষণ না থাকায় এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
প্রতিবেদনে জানা গেছে, গভীর বিতর্কিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে আটক রাখা হয়েছে। গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকলেও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। অভিযোগ উঠেছে, কারাগারে তিনি অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় মানবিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশ্ব সংস্থাগুলোর নীরবতা নিয়ে সমালোচনা
চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর এই দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো শক্তিশালী ভূমিকা বা প্রতিবাদ দেখা যায়নি। বৈশ্বিক মিডিয়াগুলোতেও বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় স্ক্রুটিনি বা বিশ্লেষণ নেই বললেই চলে। সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, ন্যায়বিচার যখন সিলেক্টিভ বা বাছাইকৃত হয়ে যায়, তখন তা আর বিচার থাকে না।
ঝুঁকিতে নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার
বিভিন্ন মহলের দাবি, রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্য নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া (Due Process) অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে তাঁর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়
এদিকে, তাঁর মুক্তির দাবিতে অনলাইনে ব্যাপক প্রচার শুরু হয়েছে। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন—যারা প্রতিনিয়ত স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের কথা বলেন, সেই প্রতিষ্ঠানগুলো আজ কোথায়? ‘নিস্তব্ধতা মানেই অবিচারের সাথে আপস’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বিশ্বের মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
দাবি ও বার্তা
মানবিক দিক বিবেচনা করে চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর শারীরিক সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া বজায় রাখা এবং অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জোরালো হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই নিরপরাধ ব্যক্তি মুক্তি না পাচ্ছেন, ততক্ষণ এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর অনলাইনে জারি রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁর অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।