ডেস্ক নিউজ :: শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। এই নিয়ে প্রথমত আওয়ামী লীগ ঘরানার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও আনন্দ উল্লাস সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা এই খবরে উদ্বেলিত এবং যে কয়েক হাজার আওয়ামী নেতাকর্মী বিদেশে অবস্থান করছেন তারা এখন স্বদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় সকল বিরোধী দল এক হয়ে গেছে?
রাস্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল এবং ২০২৪-শের মেটিকুলাশ ডিজাইনের কুশীলবিদদের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠেছে। তারা একজোট হয়ে আওয়ামী লীগ যাতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, শেখ হাসিনা যাতে ফিরে আসতে না পারেন তার জন্য বহু রকম নতুন নতুন ফন্দি ফিকির ও ষড়যন্ত্রের নীল নকশা তৈরি করছেন। তারা অর্থাৎ বিএনপি, জামাত, এনসিপি, ও অন্যান্য দল ও উপদল আওয়ামী লীগ ঠেকানোর ক্ষেত্রে এক এবং অভিন্ন। তাছাড়া তাদের পাকিস্তান-প্রেমিক সহযোগী এবং বিদেশী প্রভূরা বিশেষ করে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
বস্তুত আওয়ামী লীগ যাতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে তার জন্য যা যা করা দরকার তা তারা করতে আগ্রহী। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এতসব সত্বেও আওয়ামী লীগকে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে কি?
আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান কারণ হচ্ছে গেল দুই বছরের অপশাসন, দুর্নীতি ও নৈরাজ্য
আওয়ামীলীগের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান কারণ হচ্ছে মোহাম্মদ ইউনুসের ১৮ মাসের অপশাসন, দূরনীতি, বিচারের নামে প্রহসন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মব ভায়োল্স্ন এবং হত্যাযজ্ঞ। এরফলে বিভিন্ন তথ্য মতে শেখ হাসিনার গ্রহণযোগ্যতা বর্তমানে ৬৯% থেকে ৮০% শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সাধারণ জনগণ একবাক্যে বলছে “শেখ হাসিনার সরকারই ভালো ছিল “।
ইউনূসের শাসনামলঃ দুর্নীতি, হত্যা, লুটপাট ও নব রাজত্বের অন্যন্য উদাহরণ
ইউনূসের শাসনামলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে। ১৮ মাসে তার সরকার কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। সুইস ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ইউনূসের এক বছরে সুইসবাংকে বাংলাদেশীরা প্রায় ১২,০০০ হাজার কোটি টাকা জমা করেছেন যা আগের বছরের তুলনায় ৪১% শতাংশ বেশি। তথ্যমতে সারা বিশ্বের মধ্যে তা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
ইউনূসের শাসনামলে বাংলাদেশে আওয়ামী ঘরানার এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের প্রায় ২৯৫,০০০টি বাড়িঘরে লুটপাট, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে যা নজিরবিহীন। তাছাড়া খালেবিলে, নদীনালা, পুকুরে, জলাশয়ে, রাস্তাঘাটে, বনে জঙ্গলে বিনা বিচারে কত শত মানুষের লাশ পাওয়া গেছে তার কোনো ইয়াত্তা নেই। দূঃখজনক যে বাংলাদেশে এই প্রথম জীবন্ত মানুষকে পুডিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়। এই প্রথম জীবন্ত মানুষকে মাটি চাপা দিয়ে মেরে ফেলা হয়। এই প্রথম মধ্যযুগীয় কায়দায় চাঁদা না দেওয়ার কারণে পাথরের আঘাতে আঘাতে মানুষ মারার ভিডিও ভাইরাল আমাদের দেখতে হয়েছে। ড. ইউনূস বাংলাদেশকে আরেকটি প্যালেস্টাইনের গাজা বানাতে চেয়েছিলো। তাই তিনি তার জিহাদী মব বাহিনীকে লেলিয়ে দেয় এবং তারা বাড়িঘর, অফিস আদালত, মসজিদ মন্দির, মাজার গোরস্থান— সব প্রতিষ্ঠিত তছনছ করে দেয়। ১৯৭১ সালের পাক হানাদার বাহিনীকেও তাদের নৃশংসতা হার মানায়।
ইউনূসের অক্রোশ আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। তবে সাংবাদিক ও শিক্ষকদের প্রতি অবিচার নজিরবিহীন
১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর সহযোগী সংগঠন আল বদর, আল শামস, ছাত্র সংঘ এবং জামাতী ইসলাম অনেক অনেক সাংবাদিক, অধ্যাপক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। তবে এবারে প্রথমত ইউনূস সরকার এবং পরবর্তীতে তারিক রহমান সরকার ইউনূসের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশের কয়েক শত বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, শিল্পী, বাউল সন্ন্যাসী, সাধক, লেখক প্রমুখদের মুখ এবং জীবন জীবিকা বন্ধ করে দেয়। জোর পূর্বক অনেককেই চাকরিচ্যুত করে। বহু সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শিল্পীদের মিথ্যা অপবাদ এবং হত্যা মামলার আসামি করে জেল-জুলুম ও নির্যাতন করে চলেছে। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী সরকার যতজনকে হত্যা, ঘুন, খুন করেছে ইউনূস ও তারিক সরকার গেল ২ বছরে তার থেকে অনেক বেশি অপকর্ম করেছে।
বিশেষ ভাবে লক্ষণীয় যে বর্তমান সরকার দেশের সব নামজাদা দেশপ্রেমিক নাগরিক যারাই ক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন যেমন বিচারপতি, বড় বড় সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা অধ্যাপক, চিকিৎসক, অর্থাৎ যাঁরাই সম্মানিত ব্যাক্তিবিশেষ তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে তাঁদের সামাজিকভাবে অসম্মান ও হেনস্থা করার যে এক ঘৃণ্য প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এরফলে কোনো সম্মানিত এবং সৎ লোক আগামীতে কেনো দায়িত্ব গ্রহণে আগ্রহী হবেন বলে মনে হয় না।
১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের বা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পড়াশোনা বন্ধ করেনি বা বাধা দেয়নি। বর্তমানে ইউনূস ও তারিক সরকার কয়েক লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ তাদের পিতামাতা বা আত্মীয় স্বজন আওয়ামীলীগ দল বা মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক। এটা অন্যায় ও অমানবিক কাজ। তারফলে দেশে অশিক্ষিতের সংখ্যা যেমন আরো কয়েকগুণ বাড়বে, বেকারের সংখ্যাও বাড়বে।
দেশে আইনের শাসন অনুপস্থিত
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নাজুক। জুলাই সন্ত্রাসীরা কয়েক হাজার পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে এবং সরকার হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি না করার জন্য ইনডেমনিটি আইন পাস করেছেন এবং এরফলে পুলিশের মনোবল তলানিতে এবং দেশে আইনের শাসন অনুপস্থিত। আইন শৃঙ্খলার বেহাল অবস্থার কারণে জনগণ শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে সাদরে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
অর্থনীতি এবং ব্যবসা বানিজ্যে ভরাডুবি
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অপশাসন, চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য, সরকারের ভুল নীতি ও ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের ব্যবসা বানিজ্য তলানিতে পৌঁছেছে। স্টক মার্কেট হতাশাগ্রস্ত। বৈদেশিক মুদ্রা, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির অভাবে শত শত কল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। কয়েক লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে বিশেষ করে মহিলা শ্রমিক। এরফলে দারিদ্র্যের হার ১৮% শতাংশ থেকে বেড়ে গিয়ে ২৫% শতাংশের অধিক হয়েছে। বিশ্বখাদ্য সংস্থার মতে দেশে প্রায় ৬ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৩৬% শতাংশ লোক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
বর্তমানে অর্থনীতি স্থবির: তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে
দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে যাওয়ায় গেল বছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.২% শতাংশে নেমে এসেছে যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। শেখ হাসিনার শাসনামলে বার্ষিক জিডিপির প্রবৃদ্ধি গড় হার ছিল ৬.৮% শতাংশ এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি বিশ্বের বেস্ট পারফরমিং বা সবচেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধির দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থানে ছিল। এখন তার অবস্থান তলানিতে।
তাছাডা জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। একদিকে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি দিন দিন হুহু করে বাড়ছে। উপায়ন্তর হয়ে সরকারকে অধিকতর ব্যাংক ঝণ নিতে হচ্ছে এবং অতিরিক্ত মুদ্রা ছাপাতে হচ্ছে। এরফলে দিন দিন জিনিস পত্রের মূল্য বেড়ে চলেছে। প্রথমত একদিকে জনগণের মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ায় এবং অন্য দিকে মুদ্রা স্মীথি বৃদ্ধি হওয়ায় জনগণের জীবনযাত্রার উপর নেতিবাচক চাপ বাড়ছে। শতকরা ৯১%: শতাংশ মানুষ তাতে বর্তমান সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট। তারা এখন হাড়ে হাড়ে ঠের পাচ্ছে যে শেখ হাসিনার সরকারই ভালো ছিল। এবং সে কারণে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সহজতর এবং ত্বরান্বিত হচ্ছে।
বস্তুত ইউনূস ও পরবর্তীতে তারিক রহমান সরকার সমূহের অপকর্ম এবং অপশাসনের কারণে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সহজ হয়ে উঠেছে।
সরকারের করণীয়: সময় ক্ষেপণে দুর্গতি বাড়তেই থাকবে?
যতদিন বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করবে, যতদিন সরকার দেশে নৈরাজ্য, চাঁদাবাজী, মব সন্ত্রাস ও লুটপাট বন্ধ না করবে, যতদিন দেশে সকল দল ও মতের নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনীতি করার জন্মগত অধিকার নিশ্চিত না হবে, ততদিন দেশে অশান্তি, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা কমবে না এবং অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে না। বিনিয়োগ বৃদ্ধি হবে না, নতুন নতুন কর্মসংস্থান হবে না এবং দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকবে।
সুতরাং সরকারকে স্বউদ্যোগী হয়ে দেশে দেশের সর্ব বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তানাহলে দেশের অর্থনীতি যেমন সচল হবে না, মানুষের জীবন দিনদিন আরো ভয়াবহ ও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।