নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর ভূমিকা আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে ঘিরে সাম্প্রতিক তৎপরতা শুধু সামরিক নয়, রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতেও নতুন এক অস্থিরতার আভাস দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াকার উজ জামান এখন এক “সংবেদনশীল ভারসাম্যের প্রতীক”—যিনি একদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, অন্যদিকে বাহিনীর ভেতরে পেশাদারিত্ব ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এই ভারসাম্যই তাঁকে বহু পক্ষের চোখে শত্রুতে পরিণত করেছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, এনসিপি ও এবি পার্টি সেনাপ্রধানকে তাদের কৌশলগত পরিকল্পনার প্রধান প্রতিবন্ধক মনে করছে। কারণ, তাঁর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী এখনো দলনিরপেক্ষ অবস্থানে আছে, যা রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর “ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসে” অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একইসঙ্গে সরকারের মধ্যেও কিছু প্রভাবশালী উপদেষ্টা তাঁকে অবিশ্বাসের চোখে দেখছেন। তারা প্রধান উপদেষ্টার কানে ক্রমে এমন ধারণা দিচ্ছেন যে, ওয়াকার একজন বিশ্বাসঘাতক এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারেন। ফলে তাঁকে আইনি পথে সরানোর পরিকল্পনা ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ নিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে আবার সামনে আনা হচ্ছে পুরনো দুটি মামলা বিডিআর বিদ্রোহ এবং গুম-খুনের পুনঃতদন্ত। বিশ্লেষকদের মতে, আইসিটি আদালতের আওতায় এই মামলাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে সেনাপ্রধানকে পরোক্ষভাবে অভিযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্দেশ্য একটাই আইনের নামে তাঁকে নৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে দুর্বল করা।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় এই ধরনের পদক্ষেপ রাষ্ট্রের জন্য কতটা নিরাপদ? সেনাবাহিনী শুধু একটি বাহিনী নয়; এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার মূলভিত্তি। সেই কাঠামোর নেতৃত্বকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা মানে গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—আইনের প্রয়োগ যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়, তবে তা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তাই প্রয়োজন স্বচ্ছতা, প্রমাণভিত্তিক পদক্ষেপ ও প্রতিষ্ঠানগত ভারসাম্য রক্ষা।
কারণ সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে ঘিরে যে অদৃশ্য রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, তার প্রভাব সাময়িক নয়—এর ফলাফল রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাকেও প্রভাবিত করতে পারে।