ইউনুস সরকারে ছায়ায় জঙ্গিবাদ,রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়ে বেপরোয়া উগ্র শক্তি ,জনআতঙ্ক বাড়ছে

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশ আজ এমন এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে, যেখানে রাষ্ট্রের নীরবতা আর কূটনৈতিক সংযম হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। নিরাপত্তা বিশ্লেষক, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও নাগরিক সমাজের একাংশের মতে, উগ্রবাদী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এখন আর রাষ্ট্রের প্রান্তে অবস্থান করছে না—বরং তারা রাষ্ট্রের সুযোগ–সুবিধার ভেতর দাঁড়িয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতা শুধু উদ্বেগজনক নয়; এটি রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুতর অভিযোগ—সরকারপ্রধান ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন উগ্রবাদী শক্তির দ্বারা কার্যত বেষ্টিত। পর্যবেক্ষকদের ভাষায়, প্রশাসনের ভেতরে এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে চরমপন্থী মনোভাবের প্রতি কঠোর বিরোধিতা অনুপস্থিত, বরং সহনশীলতা ও সমঝোতার সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। এই অবস্থায় জঙ্গিরা শুধু সাহসীই হচ্ছে না, তারা ক্রমশ সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করছে—এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে।

আরও স্পষ্টভাবে যে অভিযোগটি উচ্চারিত হচ্ছে, তা হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা জঙ্গি ও চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলোর নাগালে চলে গেছে। সরকারি প্রশ্রয়, প্রশাসনিক সুবিধা কিংবা নজরদারির অভাব—যে কারণেই হোক—উগ্রবাদীরা এখন নিজেদের অপরাজেয় ভাবতে শুরু করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, যখন রাষ্ট্র কোনো শক্তিকে শাস্তির বাইরে রাখে, তখন সেই শক্তি নিজেকে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করে। আজ বাংলাদেশে ঠিক সেই মনোবৃত্তিরই বিকাশ ঘটছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগগুলোর একটি হলো—সরকার অনেক ক্ষেত্রে উগ্রবাদী শক্তির চাপ বা নির্দেশ উপেক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা জনসমাবেশ ঘিরে আচরণ—সবকিছু মিলিয়ে এমন একটি ধারণা জনমনে গড়ে উঠছে যে, সরকার উগ্রবাদীদের সন্তুষ্ট রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সত্য হোক বা না হোক, এই ধারণা নিজেই রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এই চিত্র আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পর্যবেক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, দেশের সেনা বাহিনী—একটি সাংবিধানিক ও জাতীয় প্রতিষ্ঠান—উগ্রবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না। বরং নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে তারা কার্যত এক ধরনের রক্ষাকবচ হয়ে উঠছে—এমন ধারণা জনমনে তৈরি হয়েছে। যদি রাষ্ট্রের প্রধান সশস্ত্র বাহিনী উগ্রবাদ মোকাবিলায় অনড় না থাকে, তবে তা রাষ্ট্রের কমান্ড কাঠামো ও শৃঙ্খলার জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা।

পুলিশ প্রশাসন নিয়ে অভিযোগ আরও সরাসরি ও জনজীবনে দৃশ্যমান। সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ—উগ্রবাদীদের হুমকি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা সহিংসতার ঘটনা প্রায়ই ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। মামলা হয় না, হলেও তদন্ত এগোয় না, আর অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ায়। এই বাস্তবতায় পুলিশের ভূমিকা জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। নাগরিকদের চোখে পুলিশ এখন আর নিরপেক্ষ আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী নয়—বরং উগ্রবাদীদের অপরাধ আড়াল করার একটি যন্ত্র হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি আজ আর গোপন কোনো শব্দ নয়। গ্রাম থেকে শহর, মফস্বল থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা—সর্বত্র অস্ত্রধারী চরমপন্থীদের উপস্থিতি ও শক্তি প্রদর্শনের গল্প আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মানুষ জানে, এই অস্ত্রগুলো কেবল ভয় দেখানোর জন্য নয় এগুলো যে কোনো সময় ব্যবহার হতে পারে। অথচ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান প্রতিরোধ নেই—এই অনুভূতিই জনমনে সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক অনুপ্রবেশের অভিযোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ পর্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, যাদের আদর্শিক অবস্থান বা নেটওয়ার্ক চরমপন্থী শক্তির সঙ্গে সাযুজ্যের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে “প্যারালাল বাহিনী” গঠনের আশঙ্কাও সামনে আসছে—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে বা সমান্তরালে একটি অনানুষ্ঠানিক নিরাপত্তা কাঠামো, যা ভবিষ্যতে নিয়মিত বাহিনীর কমান্ডকেই চ্যালেঞ্জ করতে পারে। ইতিহাস বলছে, সমান্তরাল শক্তিকেন্দ্র কখনোই রাষ্ট্রের জন্য নিরাপদ নয়।

সবচেয়ে বিপজ্জনক সত্যটি এখানে পরিষ্কার—উগ্রবাদীরা তখনই বেপরোয়া হয়, যখন তারা বুঝে যায় রাষ্ট্র দ্বিধাগ্রস্ত। আজ বাংলাদেশে জঙ্গীদের ভাষা, আচরণ ও সাহস সেই দ্বিধারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্র যদি নিজের ভূখণ্ডে একমাত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটি শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নয়—আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার দিকেও ঠেলে দেয়।

উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে “শূন্য সহনশীলতা” যদি কেবল বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা রাষ্ট্রকে রক্ষা করে না। আজ যদি জঙ্গীরা রাষ্ট্রীয় সুযোগ–সুবিধায় বেপরোয়া হয়, কাল তারাই রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করবে। তখন নীরবতার কোনো ব্যাখ্যা থাকবে না।

এই মুহূর্তে নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়—
নীরবতা নিজেই একটি অবস্থান।