অটিস্টিক শিশুকে ধর্ষণ: পোর্টসমাউথ কোর্টের রায়ে প্রবাসীদের ক্ষোভ ও লজ্জা, ইসলামের দৃষ্টিতে ‘জুলুমের’ চরম সীমা,

লেখক: সুমন আল মাহবুব,
প্রকাশ: ১ দিন আগে

দিনপত্র ডেস্ক :: যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ ক্রাউন কোর্টে এক অসহায় অটিস্টিক শিশুকে ধর্ষণের মতো জঘন্য ও পাশবিক অপরাধের দায়ে এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়ের পর বিশ্বজুড়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কন্যাসন্তানের মায়েরা এই ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
​আমেরিকায় বসবাসরত এক প্রবাসী বাংলাদেশি মা নিজের ক্ষোভ ও বেদনা প্রকাশ করে বলেন, “এই খবরটা যখনই আমার সামনে এলো, প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে আমি লজ্জায় ভেঙে পড়েছি। তবে তার চেয়েও বড় কথা, আমি একজন কন্যাসন্তানের মা। যখন পড়লাম যে, এক অসহায় অটিস্টিক শিশুকে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের দায়ে এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণকে জেল দেওয়া হয়েছে, তখন একজন মা হিসেবে আমার বুকটা কেঁপে উঠেছে।”
​ইসলামে শিশু ও মজলুমের নিরাপত্তা: অপরাধীর পৈশাচিকতা
​এই জঘন্য অপরাধ কেবল প্রচলিত আইনেই শাস্তিযোগ্য নয়, বরং ইসলামের মৌলিক শিক্ষারও চরম পরিপন্থী। ইসলামে শিশু, নারী এবং সমাজের যেকোনো মজলুম (অসহায় বা নির্যাতিত) মানুষের জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে ‘ফরজ’ বা আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
​ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামে কোনো অবুঝ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক) শিশুর ওপর এমন পৈশাচিক নির্যাতন চালানো চরম ‘জুলুম’ বা অবিচারের শামিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদের প্রতি স্নেহশীল হওয়ার এবং দুর্বল ও অসহায়দের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে একজন মুসলিম নামধারী তরুণের এমন বিকৃত ও পাশবিক আচরণ পুরো সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
​প্রবাসীদের দাবি: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সচেতনতা
​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক প্রবাসী লিখেছেন, অপরাধীর কোনো দেশ বা জাতি নেই। এই কুলাঙ্গার পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিকে বিশ্ব দরবারে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। প্রবাসীদের দাবি—
​যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী এই অপরাধীর যেন সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
​পরিবার ও সমাজ স্তরে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অবুজ শিশুকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।
​বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুরক্ষায় আইনি ও সামাজিক নজরদারি আরও জোরদার করা।
​এই ঘটনা প্রবাসী সমাজকে নতুন করে এক গভীর আত্মোপলব্ধির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, যেখানে সন্তানদের শুধু বাহ্যিক সাফল্য নয়, বরং মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া কতটা জরুরি, তা আবারও প্রমাণিত হলো।