দিনপত্র ডেস্ক :; ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর জানাজায় অংশ নিতে তেহরানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছে দেশের ১১ দলীয় ঐক্যের একটি প্রতিনিধিদল। ছয় সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ জামায়াতে ইসলামী ও রাজনৈতিক জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ রয়েছেন।
তবে এই সফরকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে তীব্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশ বর্তমান সরকারকে ‘আমেরিকা-ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে অভিহিত করে এবং জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের দলগুলোকে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়ে অভিযুক্ত করে এই সফরের সমালোচনা করছেন।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইরানের সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করলেও তেহরানের ক্ষোভ স্পষ্ট। খামেনেয়ীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা না পাঠানোয় ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সংকটে বাংলাদেশের এমন আচরণ ইরান মনে রাখবে।
’ডেথ টু আমেরিকা’ নীতি ও জনক্ষোভ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে ইরানের মূল পররাষ্ট্রনীতিই দাঁড়িয়ে আছে ‘ডেথ টু আমেরিকা’ বা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার ওপর, সেখানে মার্কিনপন্থী হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক মহলের এই জানাজায় অংশ নেওয়াকে এক ধরণের রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছেন অনেকে। দেশের সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশের দাবি, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফ্যাসাদ সৃষ্টির পেছনে যারা মার্কিন বলয়ের পক্ষ নিয়েছে, ইরানে প্রবেশের আগে তাদের এই পশ্চিমা তোষণ নীতির ‘তওবা’ করা উচিত।
উদ্ভূত এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং প্রতিনিধিদলের সফর মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।