দিনপত্র ডেস্ক :: চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক এমপি প্রার্থী মুফতি হারিসুল বারি রনির কন্যা বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সাব-লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন লাভ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন নেতার মেয়েকে এই গৌরবময় অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে ইসলামি বক্তা ও হুজুরদের ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, দিন-রাত মাহফিলের মঞ্চে গলা ফাটিয়ে সাধারণ মানুষের মেয়েদের ঘরের কোণে পর্দা বজায় রাখা কিংবা শুধু মাদ্রাসায় পড়ার ফতোয়া দেওয়া হুজুররা নিজেদের সন্তানের বেলায় একদম ভিন্ন রূপ ধারণ করেন। সাধারণ মানুষের মেয়েদের জন্য পর্দার কঠোর বিধি-নিষেধের কথা বলা হলেও, নিজেদের পরিবারের বেলায় তারা প্রগতিশীল ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখান।
ফেসবুকে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সাধারণের জন্য পর্দার আড়াল, আর নিজেদের জন্য নৌবাহিনীর রাজকীয় পোশাক ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান! ওয়াহ্ রে দ্বিমুখী নীতি! ফতোয়া কি তবে শুধু গরিবের সাধারণ মেয়েদের আটকে রাখার জন্য?”
অনেকের মতেই, ধর্মীয় আদর্শ ও নীতি যদি খাঁটি হয়, তবে তা সবার আগে নিজের ঘর থেকেই শুরু হওয়া উচিত। জনগণের সামনে এক নীতি আর নিজেদের ঘরে অন্য নীতি—এই প্রকাশ্য দ্বিচারিতা ও দ্বিমুখী আচরণ ইসলামি নেতৃত্বকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।